ads

বিশ্বকাপ মিশনে আবেগঘন বিদায় পেল ইরান ফুটবল দল, তেহরানে সমর্থকদের ঢল


  ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্ণিল আয়োজন ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় ফুটবল দলকে বিদায় জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ঘিরে নানা শঙ্কা থাকলেও দেশের হাজারো সমর্থক একত্রিত হয়ে ফুটবলারদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গহেলাব স্কয়ারে আয়োজিত এই বিদায়ী অনুষ্ঠান যেন রূপ নেয় জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক বিশাল মিলনমেলায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা, সংস্কৃতিকর্মী এবং হাজারো ফুটবলপ্রেমী মানুষ।

বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দেখা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। অনুশীলন ক্যাম্পে গিয়ে তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, “তোমরা শুধু একটি ফুটবল দল নও, তোমরা বিশ্বের সামনে ইরানি জাতির আশা, মর্যাদা, ঐক্য ও সংকল্পের প্রতীক। জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পরাজয়ের মধ্যেও যেন সম্মান, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং আত্মমর্যাদা অটুট থাকে।”

প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

রাতের অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে একে একে বক্তব্য দেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। তারা বিশ্বকাপে দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইরানের অফিসিয়াল জার্সি উন্মোচন। নতুন জার্সিতেও বরাবরের মতো স্থান পেয়েছে ইরানের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘এশীয় চিতা’, যা দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন ডিজাইনের জার্সি উন্মোচনের পর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন জনপ্রিয় ইরানি শিল্পী Parvaz Homay। তিনি ইরানের অফিসিয়াল বিশ্বকাপ থিম সং পরিবেশন করেন। হাজারো দর্শক তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন দেশাত্মবোধক গান। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

বিশ্বকাপ মিশনে এবার ইরানের প্রতিনিধি দলের নাম রাখা হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’। দেশটির নিহত ছাত্র ও শহীদদের স্মরণে এই নামকরণ করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বিষয়টি ইরানি জনগণের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।

জাতীয় দলের অধিনায়ক Ehsan Hajsafi অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে বলেন, “আমরা দেশের সম্মান রক্ষায় মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করব। বিশ্বের যেখানেই খেলি না কেন, ইরানের পতাকাকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি Mehdi Taj বলেন, “গত চারটি বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও আবেগপূর্ণ বিদায়ী সংবর্ধনা। খেলোয়াড়রা জনগণের সঙ্গে আছে এবং জনগণও দেশের মর্যাদা ও সম্মানের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন ইরানের পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়তে থাকে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা জটিলতা সত্ত্বেও ইরানের জনগণের ফুটবলপ্রেম এবং জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন এতটুকুও কমেনি। বরং বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে ঐক্যের আবহ তৈরি হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিশ্বকাপের আগে তেহরানের এই বিদায়ী অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই ইরানি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ