মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হিজবুল্লাহ ও ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং দেশটির নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে।
সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ইসরায়েলের ওপর নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েল কোনোভাবেই সেই পরিস্থিতি মেনে নেবে না।
ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা
ভাষণে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানান, ইরান যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব আরও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।
তার দাবি, সাম্প্রতিক সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে ইরান ও হিজবুল্লাহ বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তাই তাদের চাপিয়ে দেওয়া নতুন সমীকরণ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর এমন মন্তব্য নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননে অব্যাহত হামলা
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, জেজিন ও টাইর জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফেরানোর জন্য কাজ চলছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সীমান্ত অঞ্চলকে জনশূন্য ‘বাফার জোনে’ পরিণত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩ হাজার ৬৩৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১১ হাজার ১৮৮ জন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সংঘাতের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
ইরানের নতুন সতর্কবার্তা
অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান আরও কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে। ফলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।
0 মন্তব্যসমূহ