সমাজে নীরবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাওয়া ছয়জন ব্যতিক্রমী মানুষকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ। ‘এম-রাইজ হিরো’ শিরোনামের এই সম্মাননার মাধ্যমে মানবিক, সামাজিক ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এ আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ‘এম-রাইজ গালা নাইট’-এ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান।
অনুষ্ঠানে হিরোদের জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং বিশেষ সম্মাননা পর্বের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বাস্তব জীবনের নায়কদের সম্মান জানাতে চলচ্চিত্রের পর্দার নায়ক শাকিব খানের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপ-এর গ্রুপ হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
যেসব ব্যতিক্রমী মানুষ পেলেন ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা
‘এম-রাইজ’-এর প্রথম আসরে সম্মাননা পেয়েছেন চট্টগ্রামের প্রযুক্তি উদ্ভাবক জয় বড়ুয়া লাবলু। তিনি স্বল্প খরচে বায়োনিক হাত তৈরি করে শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন।
কক্সবাজারের মো. রোস্তম আলী ‘মা-বাবা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে অবহেলিত বৃদ্ধ ও এতিম শিশুদের আশ্রয় ও সহায়তা দিয়ে মানবিকতার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
ঢাকার প্রাণিসেবক মো. আবদুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে পথপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।
এছাড়া চট্টগ্রামের মো. রিজওয়ান ‘এক টাকায় শিক্ষা’ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। খুব কম খরচে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন।
কক্সবাজারের মরিয়ম সমুদ্রশৈবাল চাষের মাধ্যমে উপকূলীয় নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে প্রসেনজিৎ কুমার সাহা ‘উচ্ছ্বাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। তরুণদের ক্ষমতায়নে তার কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সম্মাননা পেয়ে যা বললেন হিরোরা
সম্মাননা পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জয় বড়ুয়া লাবলু বলেন, প্রযুক্তি শুধু উদ্ভাবনের জন্য নয়, মানুষের জীবন সহজ ও সুন্দর করার জন্য হওয়া উচিত। মানুষের মুখে হাসি দেখার অনুভূতিই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
‘মা-বাবা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোক্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, সমাজের অবহেলিত বৃদ্ধ ও এতিম শিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি সবসময় মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই উদ্যোগকে মূল্যায়ন করায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
যা বললেন শাকিব খান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাকিব খান বলেন, সমাজের সত্যিকারের হিরোদের হাতে সম্মাননা তুলে দিতে পেরে তিনি গর্বিত। যারা নীরবে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তাদের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, এম-রাইজের মতো প্ল্যাটফর্ম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা মানুষদের সামনে নিয়ে আসে এবং তরুণ প্রজন্মকে মানবিক ও সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
মানবিক উদ্যোগের বার্তা দিল আবুল খায়ের গ্রুপ
আবুল খায়ের গ্রুপের গ্রুপ হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির যাত্রাই এক ধরনের অনুপ্রেরণার গল্প। শূন্য থেকে শুরু করে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে তারা।
তিনি জানান, ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি শুরু থেকেই সমাজ ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই ভাবনা থেকেই ‘এম-রাইজ’ উদ্যোগের সূচনা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি শুধু একটি সম্মাননা অনুষ্ঠান নয়; বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা মানুষদের গল্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
0 মন্তব্যসমূহ