লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় চালানো হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলা চালায়। প্রথম বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকাজ শুরু হলে দ্বিতীয় দফায় আবারও হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে মুহাম্মদ আহমাদ আবু জেইদ ও জামাল নূর এল-দিন নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন। তারা ওই এলাকায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, কারণ দ্বিতীয় দফার হামলায় আশপাশের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, হামলায় নাবাতিয়েহ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের অন্তত তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের হারুফ শহরেও রাতভর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হলে অন্তত চারজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে পুরো ভবন ধসে পড়েছে এবং আশপাশের বাড়িঘরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ড্রোন হামলা, বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে ইসরায়েল সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলো এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও হামলার শিকার হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ত্রাণকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবার যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অংশ। এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
লেবাননের স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধার সংস্থাগুলো হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ