ads

ডিহাইড্রেশন কি ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়? গরমে পানিশূন্যতার প্রভাব নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা


ডিহাইড্রেশন কি ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়? গরমে পানিশূন্যতার প্রভাব নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা হলেও এর প্রভাব শুধু শরীরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে তা ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ত্বককে বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। তাই গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা শুধু শরীর সুস্থ রাখার জন্যই নয়, ত্বকের তারুণ্য ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে প্রথমেই প্রভাব পড়ে ত্বকের আর্দ্রতার ওপর। ত্বক তার স্বাভাবিক কোমলতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করে। ফলে মুখে ক্লান্ত ভাব দেখা দেয়, ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং সূক্ষ্ম রেখা বা ফাইন লাইনগুলো আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই পানিশূন্য ত্বককে প্রকৃত বয়সের চেয়ে বেশি বয়স্ক মনে হতে পারে।

ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। মুখ শুকিয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং পেশিতে টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অনেকেই এসব লক্ষণকে গুরুত্ব না দেওয়ায় সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ত্বকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পর্যাপ্ত আর্দ্রতা। যখন ত্বকের ভেতরে পানির পরিমাণ কমে যায়, তখন ত্বকের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বক সহজেই আর্দ্রতা হারায় এবং পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। ত্বক তখন প্রাণহীন, শুষ্ক ও নিস্তেজ দেখাতে শুরু করে।

পানিশূন্য ত্বকের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো ত্বকে টানটান অনুভূতি, খসখসে ভাব, স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়া, চোখ ও ঠোঁটের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠা এবং ত্বকের কোমলতা কমে যাওয়া। অনেক সময় মেকআপ ব্যবহার করলেও তা ত্বকের ওপর সমানভাবে বসে না এবং ফাইন লাইনের মধ্যে জমে যায়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, বারবার ডিহাইড্রেশন হলে ত্বকের প্রাকৃতিক মেরামত প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ত্বক দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, বায়ুদূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে পানিশূন্যতা যুক্ত হলে ত্বকের ক্ষতি আরও দ্রুত হতে পারে।

গরমের সময় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। অতিরিক্ত ঘাম, দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীর দ্রুত পানি হারায়। যারা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন, ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি আরও বেশি। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান না করা, অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার কারণেও শরীর ও ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বককে সুস্থ, সতেজ ও তারুণ্যময় রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, কমলা, মাল্টা, আনারস ও অন্যান্য পানিসমৃদ্ধ ফল এবং সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এগুলো শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে মৃদু ও উপযোগী স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি কমে।

এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো শরীরকে পর্যাপ্তভাবে হাইড্রেটেড রাখা।

গরমের এই সময়ে তাই শুধু তৃষ্ণা পেলেই নয়, নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুন্দর, উজ্জ্বল ও তারুণ্যময় ত্বকের জন্যও পর্যাপ্ত পানি অপরিহার্য।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ