ads

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল জানতে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে ইসরায়েল, দাবি নিউইয়র্ক টাইমসের


ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে ইসরায়েল।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই তৎপরতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ ইরান বিষয়ক আলোচনায় সম্পৃক্ত একাধিক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। মূল লক্ষ্য ছিল, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অবস্থান গ্রহণ করতে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আগাম ধারণা পাওয়া।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েল-সংক্রান্ত পাল্টা গোয়েন্দা সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত মতপার্থক্য বাড়ার পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সতর্কবার্তায় ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাব্য ঝুঁকিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও উভয় দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারে মাঝে মাঝে পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষ করে কূটনৈতিক সমাধান ও সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান সব সময় এক নয়। ফলে একে অপরের নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে বিতর্কের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড গোপন নথি ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তিনি প্রায় ৩০ বছর কারাভোগ করেন। সেই ঘটনা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত গুপ্তচরবৃত্তির মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি শুধু ইসরায়েলের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেও মিত্র দেশগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করে থাকে। ২০১৩ সালে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা ঠিকাদার ও হুইসেলব্লোয়ার Edward Snowden ফাঁস করা নথিতে প্রকাশ পায় যে, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর Angela Merkel-এর যোগাযোগসহ বিভিন্ন মিত্র দেশের নেতাদের ওপর নজরদারি চালিয়েছিল।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়া সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। আর সে কারণেই ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ