ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে ইসরায়েল : ট্রাম্প

 


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল যদি আবারও ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, “আমি বলেছি, তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে। নইলে খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে যাবে।”

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা

রোববার লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে জানা যায়। পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় পুরো অঞ্চল আবারও সংঘাতের মুখোমুখি হয়।

এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে ওয়াশিংটন। সেই ধারাবাহিকতায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

নেতানিয়াহুকে সংযমের আহ্বান

টেলিফোন আলাপের সময় ট্রাম্প ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান না চালানোর আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে তারা আর কোনো হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে না।

ট্রাম্প বলেন, “ইরান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে তারা আর কোনো হামলা চালাবে না। তারা আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে যেন আমরা ইসরায়েলকে আর কোনো হামলা না চালানোর কথা জানাই।”

তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওয়াশিংটন বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

‘ট্রাম্পের অবস্থান ছিল স্পষ্ট’

একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তাকে কোনোভাবেই সামরিক পদক্ষেপের সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ ছিল না।

তিনি বলেন, “নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট এ ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে নন। তাকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি প্রায়ই নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেন।”

এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের ভেতরে থাকা কিছু মতপার্থক্যেরও ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনীতির সমীকরণ ও যুদ্ধ

মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই নেতার রাজনৈতিক প্রয়োজনও ভিন্ন।

তার ভাষায়, “ইসরায়েলের রাজনীতিতে টিকে থাকতে নেতানিয়াহুর জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে, আর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে টিকে থাকতে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধের অবসান প্রয়োজন।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থানই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কৌশলগত পার্থক্যও তুলে ধরেছে।

বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তাকে সংঘাত প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইসরায়েল ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে অঞ্চলটি আরও বড় যুদ্ধের দিকে যাবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ