জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ডানপন্থি রাজনৈতিক ঘরানার দিকে ঝুঁকে পড়ছে এ অভিযোগ তুলে দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুরের সমন্বয়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা পদত্যাগ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার বিরোধিতা করে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
পদত্যাগপত্রে নীলিমা দোলা লেখেন, তিনি এনসিপির সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার মতে, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, দলটি ডানপন্থি রাজনীতিকেই পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে নীলিমা দোলা বলেন, এটি কোনও কৌশলগত জোট নয়। তার দাবি, দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এই সমঝোতা করা হয়েছে এবং মনোনয়নের নামে প্রতারণা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই জোট কৌশলগত হলে এত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর পদত্যাগ হতো না।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাকে কোনও ক্ষমতা বা বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বরং তার প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত পরিচয় এনসিপিকে শক্তিশালী করেছে। পদত্যাগকারীদের ‘বামপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত করাকে তিনি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল বলে উল্লেখ করেন।
নীলিমা দোলার অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে এনসিপির ভূমিকা ছিল দুর্বল ও দায়সারা। নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে দলটির দীর্ঘ সময় লেগেছে, যা তার রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এনসিপির রাজনীতি করার কথা ছিল। কিন্তু ধর্মীয় রাজনীতিকে সামনে এনে রাজনৈতিক কৌশল নেয়া শহিদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে কোনও ধর্মীয় অভ্যুত্থান হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা আসে গত ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই এনসিপির ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এনসিপির অন্তত ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা।
উল্লেখ্য, ‘মধ্যপন্থি রাজনীতির’ অঙ্গীকার নিয়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। তবে সাম্প্রতিক জোট রাজনীতিকে ঘিরে দলটির আদর্শিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 মন্তব্যসমূহ