ক্যারিয়ারের যে সময়টাতে সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন মেসি


 



ফুটবল বিশ্ব যাকে চেনে অবিচল প্রতিভা আর অদম্য মানসিকতার প্রতীক হিসেবে, সেই মহাতারকা লিওনেল মেসির জীবনেও ছিল এক গভীর অন্ধকার অধ্যায়। ২০১৬ সালে জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখার পর কয়েকটি মাস—যে সময়টাতে তার মনে হয়েছিল, হয়তো এখানেই সব শেষ। আজ, সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে মেসি নিজেই স্বীকার করছেন অনুশোচনা, ভাঙন এবং শেষ পর্যন্ত ফিরে আসার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব।


২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মেসি। মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে তার কণ্ঠে ছিল চরম হতাশা—একাধিক ফাইনাল হেরে শিরোপা না পাওয়ার ক্ষত তখন তাজা। সেই সিদ্ধান্তের পরের মাসগুলো স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘আমি ম্যাচগুলো দেখতাম, আর মনে হতো—সবকিছু শেষ করে দিতে চাই।’


জাতীয় দলের বাইরে থাকা সেই সময়টাকে তিনি বর্ণনা করেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে। তার ভাষায়, সিদ্ধান্তটা ছিল আবেগের, কিন্তু খুব দ্রুতই তা পরিণত হয় গভীর অনুশোচনায়। ‘সবাইকে নিজের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই যেতে হয়,’ বলেন মেসি, ‘কিন্তু নিজের অনুভূতিকে কখনোই পরিত্যাগ করা উচিত নয়।’


প্রায় দুই মাস পর, তৎকালীন কোচ এদগার্দো বাউজার সঙ্গে আলোচনার পর ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। সমালোচনা, চাপ—কিছুই আর তখন তার কাছে মুখ্য ছিল না। ‘আমি ফিরে এসেছি, মানুষ কী বলল তাতে আর মাথা ঘামাইনি,’ বলেন তিনি।


২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন। নতুন স্বর্ণকেশি লুক, কিন্তু পুরোনো দায়বদ্ধতা—সেই ম্যাচে করা একমাত্র গোলেই জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরে মেসি বলেন, ‘আমি তখন কাউকে ঠকাইনি। যেটা বলেছিলাম, সেটাই অনুভব করছিলাম। ধাক্কাটা খুব বড় ছিল, কিন্তু পরে আমি ভেবে দেখেছি।’


আজ সেই অধ্যায় ফিরে তাকালে মেসির বার্তা পরিষ্কার—হাল না ছাড়ার। “পড়ে গেলে আবার উঠতে হবে। শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও অন্তত জানা থাকবে, স্বপ্নের জন্য সবটুকু দেওয়া হয়েছিল।”


যে সময়টাতে মেসির মনে হয়েছিল সবকিছু শেষ, সেই সময়টাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মানবিক, সবচেয়ে শক্ত শিক্ষার গল্প।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ